ফার্মগেটে ত্রুটিপূর্ণ নকশার কারণে বিয়ারিং প্যাড খুলে যায়: তদন্ত প্রতিবেদন
ফার্মগেটে মেট্রোরেলের পিলারের বিয়ারিং প্যাড ও নকশায় ত্রুটি খুঁজে পেয়েছে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি।সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটি আজ বৃহস্পতিবার যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কাছে এ প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।গত ২৬ অক্টোবর ফার্মগেট স্টেশনের কাছে মেট্রোরেলের ৪৩৩ নম্বর পিলার থেকে একটি বিয়ারিং প্যাড পড়ে যায়। এর আঘাতে ৩৫ বছর বয়সী আবুল কালাম আজাদ মারা যান। এ ঘটনায় আহত হন আরও দুজন।ওই ঘটনায় গঠিত উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটির দেওয়া প্রতিবেদনের কিছু অংশ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে...
ফার্মগেটে মেট্রোরেলের পিলারের বিয়ারিং প্যাড ও নকশায় ত্রুটি খুঁজে পেয়েছে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি।
সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটি আজ বৃহস্পতিবার যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কাছে এ প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
গত ২৬ অক্টোবর ফার্মগেট স্টেশনের কাছে মেট্রোরেলের ৪৩৩ নম্বর পিলার থেকে একটি বিয়ারিং প্যাড পড়ে যায়। এর আঘাতে ৩৫ বছর বয়সী আবুল কালাম আজাদ মারা যান। এ ঘটনায় আহত হন আরও দুজন।
ওই ঘটনায় গঠিত উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটির দেওয়া প্রতিবেদনের কিছু অংশ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান সাংবাদিককের কাছে প্রকাশ করেছেন।
প্রতিবেদনে বিয়ারিং প্যাড পড়ে যাওয়ার স্থানে মেট্রো লাইনের নকশায় ত্রুটির উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিয়ারিং প্যাডে ত্রুটি ছিল বলেও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে বিচ্যুত বিয়ারিং প্যাডের হার্ডনেস, কমপ্রেশন সেট প্রচলিত স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী সঠিক ছিল না বলে তদন্ত কমিটির কাছে মনে হয়েছে।
এছাড়া, বিয়ারিং প্যাডগুলো কিছুটা ঢালু অবস্থায় বসানো হয়েছে। বিয়ারিং প্যাড পড়ে যাওয়ার পেছনে এর কিছুটা প্রভাব রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তদন্ত কমিটি আরও বলছে, ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনটির দুই পাশে লাইনটি বৃত্তাকার হয়েছে চলে গেছে। ভায়াডাক্টের সোজা অংশ ও বৃত্তাকার অংশের মধ্যে কোনো ধরনের ট্রানজিশন কার্ড ব্যবহার করা হয়নি।
কমিটির অনুসন্ধানে মেট্রোরেলের এই অংশের নকশায় ত্রুটি থাকতে পারে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। সোজা অ্যালাইনমেন্টের মডেলিং ও অ্যানালাইসিস দিয়েই নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে কমিটি ঘটনার সাথে নাশকতামূলক কর্মকান্ডের কোন যোগসাজশ পায়নি।
তদন্ত কমিটি বলেছে, মেট্রোর অন্যান্য স্থানে বিয়ারিং প্যাডগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে।
সেতু ও মেট্রোরেল লাইনের মতো উঁচু কাঠামোর ভায়াডাক্ট ও পিলারের মধ্যে বিয়ারিং প্যাড স্থাপন করা হয়। এক্ষেত্রে, মেট্রোরেলের প্রতিটি পিলারে চারটি বিয়ারিং প্যাড স্থাপন করা হয়েছিল।
এই প্যাডগুলোর প্রতিটির ওজন প্রায় ১০০ কেজি। এগুলো কোনো স্ক্রু দিয়ে আটকানো হয় না, বরং মেট্রোর উপরের ওজন প্যাডের ওপর চাপ দেয়। সেই চাপের কারণে প্যাড ঠিক জায়গায় থাকে এবং পাশে সরতে পারে না।
এর আগে, ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ৪৩০ নম্বর পিলার থেকে চারটি বিয়ারিং প্যাডের মধ্যে একটি পড়ে যায়, যার ফলে আগারগাঁও-মতিঝিল সেকশনে প্রায় ১১ ঘণ্টা ধরে মেট্রোরেল চলাচল ব্যাহত হয়। তবে তখন কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।