সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানী ঢাকার রাস্তাঘাটে আছড়ে পড়েছে অগণিত জনতার ঢেউ। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ রূপ নিয়েছে জনসমুদ্রে।

যতদূর চোখ যায়, চারদিকে শুধু মানুষ আর মানুষ।

জাতীয় সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের দক্ষিণ প্লাজায় খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে সকাল থেকেই সমবেত হতে থাকেন শোকাহত মানুষেরা।

মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ঘুরে দ্য ডেইলি স্টারের সংবাদদাতা জানান, দিনের শুরুতেই মানুষের সারি তৈরি হতে থাকে এবং সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তা আরও দীর্ঘ হয়।

ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকা থেকে শোকাহত মানুষের লাইন আসাদ গেট পেরিয়ে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। প্রধান সড়কের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি রাস্তা ও গলিপথে মানুষ ধৈর্যের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিলেন। অনেকের হাতে ছিল দলীয় পতাকা ও প্ল্যাকার্ড, আবার অনেকেই নীরবে দোয়া করছিলেন।

জনসমাগম কেবল সড়কেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বিভিন্ন এলাকায় মানুষকে উড়াল সড়কের ওপর এবং আশপাশের ভবনের ছাদে দাঁড়িয়ে জানাজার কার্যক্রম একনজর দেখার চেষ্টা করতে দেখা যায়।

হলিক্রস রোড এলাকা, পূর্ব ও পশ্চিম তেজতুরীপাড়া, গ্রিনরোড ও আশপাশের গলিগুলোতেও ব্যাপক জনসমাগম লক্ষ্য করা যায়। তীব্র যানজট উপেক্ষা করেই স্থানীয় বাসিন্দারা জানাজায় অংশ নিতে দাঁড়িয়ে যান।

বিএনপি সমর্থকদের পাশাপাশি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন, এমন সাধারণ নাগরিকদেরও পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, যা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের ব্যাপক প্রভাবের প্রতিফলন। বয়স্ক মানুষ, নারী ও তরুণ—সব বয়সের মানুষই উপস্থিত ছিলেন; অনেককেই শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত দেখা যায়।

এই অভূতপূর্ব জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ ও চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকদের মোতায়েন করা হয়। আশপাশের সড়কে যান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে কর্তৃপক্ষ সবাইকে শান্ত থাকার এবং নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানায়।

অনেক শোকাহত মানুষ খালেদা জিয়াকে দেশের আধুনিক রাজনৈতিক ইতিহাস গড়ে দেওয়া এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন।

আসাদ গেটের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তি বলেন, 'খালেদা জিয়া শুধু একটি দলের নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন এ দেশের সব মানুষের নেত্রী।'